
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অচল পড়ে থাকা সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক পুনরায় চালু এবং এর সম্প্রসারণের মাধ্যমে খুলনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড) খুলনা।
বুধবার (১০ জুন) খুলনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল কাদির এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো সময়ের দাবি।
ফেড নেতারা জানান, জার্মান প্রবাসী খুলনার সন্তান অধ্যাপক ড. বিভূতি রায়ের উদ্যোগে এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ২০০৮ সালে সোনাডাঙ্গায় ৪ দশমিক ৩৩ একর জমির ওপর ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সোলার পার্ক ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। তবে কারিগরি ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ২০১২ সালে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তাদের দাবি, মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান সোলার পার্কটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। পাশাপাশি স্থাপনার অব্যবহৃত ছাদ ও পুকুরের অংশবিশেষ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ফোরামের হিসাব অনুযায়ী, পুকুরে ২৯০ কিলোওয়াট ভাসমান সোলার প্যানেল এবং ছাদে মোট ৪৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করলে বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে পাঁচ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসবে এবং পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশন প্রায় বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সোলার পার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন করে যুবসমাজের জন্য স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ কেন্দ্রকে আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করারও সুযোগ রয়েছে।
ফেডের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দ্রুত সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক চালু করা, এর ছাদ ও পুকুরের অংশে নতুন সোলার প্যানেল স্থাপন, নগর ভবন ও বড় ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, নতুন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের বিধান কার্যকর করা এবং খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশনের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ থাকলে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে দেশের জন্য একটি অনুসরণযোগ্য মডেলে পরিণত হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :