প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের চাপ বাড়ছে, জার্মানিতে মধ্যবর্তী জলবায়ু আলোচনা শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ন
প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের চাপ বাড়ছে, জার্মানিতে মধ্যবর্তী জলবায়ু আলোচনা শুরু

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপের মধ্যেই জার্মানির বন শহরে শুরু হয়েছে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীন সাবসিডিয়ারি বডির ৬৪তম অধিবেশন (এসবি৬৪)। আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার শুরু হওয়া এ বৈঠক চলবে ১৮ জুন পর্যন্ত।

দুই সপ্তাহব্যাপী এই আলোচনায় জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস, ন্যায্য রূপান্তর কাঠামো (জাস্ট ট্রানজিশন) এবং গ্লোবাল স্টকটেক বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন সাত হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের সরকারি আলোচক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গবেষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশের পক্ষে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ অংশগ্রহণ করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনা এখন নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রতিশ্রুতি ঘোষণার পর্যায় পেরিয়ে বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল বলেন, পুরোনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক বা পুনরায় আলোচনা করার সময় আর নেই। বিদ্যমান অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং বাস্তব ফলাফল অর্জনই এখন বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহ, এল নিনোর প্রভাব এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু সংকট এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সরাসরি ঝুঁকি।

স্টিয়েল সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শুধু নির্গমনই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি ও অনিশ্চয়তা “আমদানি” করছে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে ফেলছে।

তিনি বলেন, এসবি৬৪–এর অগ্রাধিকার হতে হবে বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্য, বেলেম অভিযোজন সূচক, প্রথম গ্লোবাল স্টকটেক বাস্তবায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং ন্যায্য রূপান্তর কাঠামো এগিয়ে নেওয়া।

স্টিয়েল আরও বলেন, জলবায়ু প্রক্রিয়াকে বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে, যাতে সরকার, বিনিয়োগকারী, শহরসমূহ ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তিনি বলেন, “জলবায়ু সংকট মোকাবিলা মানবজাতির সবচেয়ে কঠিন কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রচেষ্টা।”