খুলনাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার নিচ্ছে


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : মে ২৯, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ন
খুলনাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভয়াবহ আকার নিচ্ছে

খুলনা বিভাগে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব। উপকূলীয় এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, তীব্র তাপদাহ এবং জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলো এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পরিবেশবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে খুলনাঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি।

বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার প্রভাব মারাত্মকভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। চিংড়ি ঘেরের বিস্তারের পাশাপাশি হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা।

গত এক দশকে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতাও বেড়েছে। Cyclone Sidr, Cyclone Aila, Cyclone Amphan এবং Cyclone Remal উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করেছে। নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি গ্রামে ঢুকে হাজার হাজার পরিবারকে দুর্ভোগে ফেলেছে।

খুলনা মহানগরীতেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুলনায় আগের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বাড়ছে এবং শীতের সময়কাল কমে যাচ্ছে।

এদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন Sundarbans এর পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকিতে পড়ছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করা, বেশি বেশি গাছ লাগানো, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে খুলনাঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রা আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।