
বটিয়াঘাটা উপজেলায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে গাগড়ামারি এলাকায় দেখা যায়, ৩ নম্বর গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের ‘লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্র’-এর অদূরেই একটি প্রকল্পে বালু ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই প্রকল্পে নদী থেকে সরাসরি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে পাইপলাইনের সাহায্যে জমিতে ফেলা হচ্ছে।
এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর লবণাক্ত পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ বালু ব্যবহার করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসলাম হালদারের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে একইভাবে বালু ফেলে জমি ভরাটের কাজ চলায় কৃষিজমির ক্ষতি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, লবণাক্ত পানির প্রভাবে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় কৃষক চৈতন্য দাস বলেন, জমি ভরাট করতে শুকনো বালু বা মাটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু লবনাক্ত পানির বালু সরাসরি নদী থেকে জমিতে দেয়ায় আশেপাশের কৃষি জমি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। লবন পানি চুষে নিচ্ছে উর্বর মাটি। যার কারনে উর্বর মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। তার প্রমান গবেষনাকেন্দ্রেরই ফসলের মাঠ। লবন পানির কারনে জমিতে ফসল উঠছে না। কৃষি ফসল উৎপাদন না হলে তো আমরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো। এটা আসলে কেউ বুঝতে চাইছে না।
অন্য একজন কৃষক জগলুল বলেন, লবনাক্ত পানি কৃষি জমির শত্রু। এমনিতেই এ অঞ্চলের জমি লবনাক্ত। বৃষ্টির সময় মিষ্টি পানির কারনে লবনাক্ততা কিছুটা হ্রাস পায় বিধায় এখন জমিতে ভালো ফসল হয়। তবে নদীর পানি এ মাটিতে ঢুকলে কৃষি জমির উর্বরতা হারাবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিপ্রযুক্তি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র সরকার বলেন, লবন ফসলের জন্য ক্ষতিকর। লবনাক্তের প্রভাবে ফসলের ফলন ভালো হয় না। লবণাক্ত পানি জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়, মাটির গঠন নষ্ট করে এবং ফসলের উৎপাদনও কমিয়ে দেয়। এমনকি এটি মাটির পানি ধারণক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, গরমের সময় মাটির পানি বাস্প হয়ে গেলেও লবণ থেকে যায় মাটিতে। অনেক মাটির ওপর সাদা সাদা লবণও দেখা যায়। এজন্য কৃষি ফসলের জন্য লবণ মারাত্বক ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রিয় সদস্য ও খুলনার সমন্বয়কারী এড. বাবুল হাওলাদার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নদী থেকে যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ক্ষতি হচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতিও হচ্ছে। বালু মহল ব্যতিত বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের এবং কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে যেনো অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়। নইলে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে এবং কৃষি জমির ক্ষতি হবে।
বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :