৫০ বছরে খুলনার পানি হতে পারে সমুদ্রের মতো লবণাক্ত: আইনুন নিশাত


নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
৫০ বছরে খুলনার পানি হতে পারে সমুদ্রের মতো লবণাক্ত: আইনুন নিশাত

আগামী ৫০ বছরের মধ্যে খুলনা শহরের পানির লবণাক্ততা সমুদ্রের পানির সমান হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, এর ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেবে এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রোববার খুলনায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের মূল বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে দেশের উপকূল ও পানি সংকট নিয়ে গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

আইনুন নিশাত বলেন, লবণাক্ততার প্রভাবে সুন্দরবনে সুন্দরীগাছ কমে গিয়ে গরানগাছের আধিপত্য বাড়বে। একই সঙ্গে লবণসহিষ্ণু কীটপতঙ্গ ও প্রাণীর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রচলিত ফসল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং পানি উৎসগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

উপকূলীয় বাঁধের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। একই সঙ্গে পানি উৎস ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক এক ঘূর্ণিঝড়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশে যদি ১৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে, তাহলে এর প্রভাব ফরিদপুর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মহানগর এলাকায় ওয়াসা এবং পৌর এলাকায় ডিপিএইচই পানিসেবা দিলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির সংকট ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় ডিস্যালিনেশন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঝুঁকি বিশ্লেষণে জিআইএস ও ডিজিটাল মডেলিং, নগর ও পৌর পানি ব্যবস্থাপনা, নদী অববাহিকা শাসন, এসডিজি-৬ বাস্তবায়নে বাজেট ও নীতিগত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও নেতৃত্বে নারীদের ওপর পানির সংকটের বাড়তি প্রভাব, জলবায়ুসহনশীল ওয়াশ সেবা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উপকূল ও গভীর সমুদ্রগামী জেলে সম্প্রদায়ের পানিনির্ভর মানবিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে সভাপতিত্ব করেন ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল জলবায়ু বাস্তবতায় পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, কমিউনিটির অভিজ্ঞতা ও শাসনব্যবস্থার সংস্কারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা জরুরি।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, সুন্দরবন একাডেমির অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, ডর্পের মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান এবং একশনএইড বাংলাদেশের আবুল কালাম আজাদ।